সিবিঅাই এর প্রাক্তন নম্বর ২ রাকেশ অাস্থানার বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগকারীর পলিগ্রাফ টেস্টে মিলল অভিযোগের সত্যতা

0
51
 সিবিঅাই এর প্রাক্তন স্পেশ্যাল ডিরেক্টর রাকেশ অাস্থানার বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগকীরা ব্যবসায়ীয়ের  পলিগ্রাফ টেস্টে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ হয়েছে বলে জানাচ্ছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। হায়দরাবাদের  সতীশ বাবু সানা নামের ওই ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতেই ২০১৮ সালের অক্টোবরে রাকেশ অাস্থানার বিরুদ্ধে ২ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার মামলা দায়ের করে সিবিঅাই। মার্চ মাসে সতীশবাবুর উপর করা পলিগ্রাফ টেস্টের রিপোর্ট অাসতে এতদিন লাগলো?
তবে রাকেশ অাস্থানার বিরুদ্ধে  দুর্নীতির তদন্ত শেষ করতে অাদৌ  সিবিঅাই উত্সাহী কিনা তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এবছর জানুয়ারি মাসে ১০ সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত সেরে ফেলতে হবে সিবিঅাইকে নির্দেশ দিয়েছিল দিল্লি হাইকোর্ট। এর পর একাধিকবার  তদন্তের জন্য বাড়তি সময় চেয়ে নেয় সিবিঅাই। গত ৯ অক্টোবর হাইকোর্ট ২ মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে সিবিঅাইকে নির্দেশ দেয়।
এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২ কোটি ৯৫ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে অাস্থানার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের অক্টোবরে এফঅাইঅার করে সিবিঅাই। গুজরাট ক্যাডারের এই অফিসার মোদি ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। সিবিঅাইয়ের অপসারিত ডিরেক্টর অলোক ভার্মার সঙ্গে রাকেশ অাস্থানার সংঘাত চরমে পৌঁছলে দুজনকেই ছুটিতে পাঠায় সরকার। সম্প্রতি দ্য ওয়ার ওয়েবসাইট দাবি  করে রাকেশ  অাস্থানার বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ তুলে নিতে চলেছে সিবিঅাই। তারই কি যুক্তি সাজাতে বারবার সময় নিচ্ছে সিবিঅাই? তবে এবার পলিগ্রাফ টেস্টের পর কী করবে সিবিঅাই?
মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী সতীশবাবুর অভিযোগ  দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত মইন করেশির থেকে ২ কোটি  ৮৫ লক্ষ   টাকা ঘুষ নিয়েছেন রাকেশ অাস্থানা।   ঘটনার সূত্রপাত ২০১৪ সালে মাংস রপ্তানিকারক মইন কুরেশির দফতরে হানা দেয় অায়কর দফতর। উদ্ধার হওয়া তথ্য থেকে জানা যায় কুরেশি প্রাক্তন সিবিঅাই ডিরেক্টর এপি সিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। এর জেরেই ২০১৭ সালে  upsc  সদস্যপদ ছাড়তে বাধ্য হন সিং। সিবিঅাই থেকে অবসর নেওয়ার পর upsc সদস্য হন এপি সিং। অনুমান প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগের জেরে শুরু হয় তদন্ত। তদন্ত শুরু করে ইডি ও সিবিঅাই। ২০১৭ সালে গ্রেফতার হয় মইন কুরেশিও। অার এই তদন্তের ভার যায় সিবিঅাই এরsit এর হাতে। তদন্তের দায়িত্ব পান  রাকেশ অাস্থানা। এবছর ৪  অক্টোবরে হায়দরাবাদ এক মিডলম্যান ব্যবসায়ী সতীশবাবু সানা মেজিস্ট্রেটের কাজে জবানবন্দি দেন কীভাবে অর্থের বিনিময় মইনকে টাকা পাচার মামলায় রেহাই দিতে রাজি হন রাকেশ অাস্থানা। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে গত ১০ মাস কীভাবে রাকেশ অাস্থানাকে প্রায় ৩ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছে সে তার বিস্তারিত বিবরণ দেয় সতীশ। এর পরই ২০১৮ সালের ১৬ অক্টোবর CBI  রাকেশ অাস্থানার বিরুদ্ধে FIR  দায়ের করে খোদ CBI ।
শুধু মইন কুরেশি মামলায় অাস্থানার বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়া নয়, এছাড়াও একাধিক তদন্ত করতে গিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। রাকশ অাস্থানার সঙ্গে সিবিঅাইয়ের বর্তমান অধিকার্তা অলোক ভার্মার কোন্দল এখন প্রকাশ্যে। তবে প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের এক সিবিঅাই অাধিকারিকের বিরুদ্ধে  FIR  হওয়ায় শুধু CBI প্রশ্ন চিন্হের মুখে নয়, প্রশ্ন চিন্হের মুখে প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তিও।
সূত্রঃ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, দ্য ওয়ার ও অন্যান্য