রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আবার সরব রাজ্যপাল

0
7

মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে কালীপুজোয় উপস্থিত হয়ে আপ্লুত হয়েছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়।তবে কয়েকদিন কাটতেই আবার রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেন তিনি।এবার এ রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে রাজ্যের ব্যর্থতার দিকে আঙ্গুল তুললেন তিনি।রাজ্যে একজন পুলিশ অফিসারের দুষ্কৃতীদের হাতে নিহত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজ্যপাল রবিবার সাংবাদিকদের বলেন,এর আগে জিয়াগঞ্জে একই পরিবারের তিনজনকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছে,এখন পুলিশ খুন হচ্ছে দুষ্কৃতী তান্ডবে।এরপরেও না মেনে উপায় কী যে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।রাজ্যপাল এদিন কাশ্মীর নিয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থানেরও সামালোচনা করেন।তাঁর মতে ৭০ বছর পর কাশ্মীরকে ভারতের মূল স্রোতে নিয়ে আসার প্রয়াস হচ্ছে,কারোর উচিত নয় তা নিয়ে রাজনীতি করা।এ রাজ্যের সরকারের সেক্ষেত্রে অবস্থান বেদনাজনক ও দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন রাজ্যপাল।মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে নজরদাড়ির যে অভিযোগ করেছেন তা নিয়েও কটাক্ষ করে রাজ্যপাল মন্তব্য করেন,এ রাজ্যেও বেশ কিছুজন তাঁর সঙ্গে দেখা করে সরকারের বিরুদ্ধে তাঁদের উপর ফোন ও ডিজিটাল মাধ্যমে নজরদাড়ির অভিযোগ করেছেন।যে অভিযোগ এ রাজ্যের সরকারের বিরুদ্ধেই আছে সেই অভিযোগই অন্য কোন সরকারের বিরুদ্ধে করা নৈতিকতার দিক থেকে ঠিক নয় বলে রাজ্যপাল মন্তব্য করেন।

রাজ্যপালের এইসব মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাজ্যের শাসক দল।তৃণমূলের পক্ষে দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন,রাজ্যপালের কথা একেবারে বিজেপি নেতাদের মত হয়ে যাচ্ছে।রাজ্যপালের চেয়ারে বসে তিনি বিজেপির সভাপতির মত কথা বলছেন।রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান  ভুলে গেছেন তিনি রাজনীতির উর্দ্ধে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েই রাজ্যপালের চেয়ারটাতে বসেছেন।কলকাতা চলচ্চিত্র উত্সবে তাঁকে আমন্ত্রন না করা নিয়েও রাজ্যপাল তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দেন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে।রাজ্যপাল বলেন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা থাকবেন অথচ রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানকেই আমন্ত্রন জানানোর সৌজন্য দেখায় না রাজ্য সরকার।রাজ্য সরকার সাংবিধানিক নিয়মকানুন সম্পর্কে আদৌ অবগত কিনা তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন রাজ্যপাল।এদিন ছটপুজোয় কোর্টের নির্দেশ পালনে সরকারের ব্যর্থতা নিয়েও সরকারকে বিধেঁছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়।পার্থ চট্টোপাধ্যায় রাজ্যপালের সব কথার বিরোধিতা করে প্রতিক্রিয়া দিলেও পরিবেশ নিয়ে ছটপুজোয় কোর্টের নির্দেশ ভাঙা নিয়ে কোন মন্তব্য করতে চান নি,তাঁর মতে বিচারাধিন বিষয় নিয়ে মন্তব্য করা উচিত নয়।তবে রাজ্যপাল ও রাজ্যের শাসক দলের সঙ্গে যে একটা সংঘাতের ক্ষেত্র তৈরি হতে যাচ্ছে তা পরিষ্কার।