চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগকারিণী ছাত্রীকেই জেলে পাঠাল অাদালত

0
23

প্রাক্তন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী ও প্রাক্তন সাংসদ চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগকারিণী ছাত্রীকেই  বুধবার ১৪০িনের জন্য  জেল হেফাজতে পাঠাল অাদালত । এদিন তার জামিনের শুনানি হবে।  মঙ্গলবারই ছাত্রীটিকে গ্রেফতারের তোড়জোড় শুরু করেছিল। অবশেষে তোলাবজির  অভিযোগে গ্রেফতার তাঁকে করল পুলিস। বুধবার সকালে ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে পুলিস জোর করে ধরে নিয়ে গ্রেফতার করে নির্যাতিতাকে। অন্তত এমনটাই মিডিয়াকে জানিয়েছেন তার বাবা।  বৃহষ্পতিবার তাঁর অাগাম জামিনের অার্জির শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তার অাগে পুলিস নির্যাতিতাকে গ্রেফতার করে বুঝিয়ে দিল এই তদন্তের পরিণত কী হতে চলেছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর   সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ বিজেপির এই প্রাক্তন সাংসদ গ্রেফতার করে পুলিস। অাদালত  ১৪দিনের জেল হেফাজতে পাঠায় চিন্মায়নন্দকে। ২দিন জেল হেফাজতে থাকার পর এখন চিন্ময়ানন্দ রয়েছে হাসপাতালে ।এনডিটিভির রিপোর্ট অনুযায়ী চিকিত্সকেরা জানিয়েছেন চিন্ময়ানন্দের শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। তারপরও তিনি জেলে না থেকে  হাসপাতালে কেন সেই প্রশ্ন কেউ করছে না?    তবে ছাত্রীটির অানা ধর্ষণের অভিযোগ অানেনি পুলিস। পুলিসের দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে ক্ষমতার অপব্যবহার করে যৌন সম্ভগ করেছেন চিন্ময়ানন্দ। উল্টোদিকে চিন্ময়ানন্দের তরফে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযোগকারীণি ছাত্রীটির বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিস।

সাহাজানপুরের ওই অাইনের ছাত্রী অভিযোগ করে  তাঁর স্নানের ছবি গোপনে ভিডিও করে সেই ছবি দেখিয়ে   ব্ল্যাকমেল করে তাঁকে জোর করে ধর্ষণ করে চিন্ময়ানন্দ। অাবার সেই ধর্ষণের ছবিও দেখিয়ে ১ বছর ধরে তাঁকে শারীরিকভাবে শোষণ করে বিজেপির এই প্রাক্তন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী। দিল্লি পুলিস ও সুপ্রিম কোর্ট গঠিত সিটের কাছে নির্যাতিতা এই অভিযোগ করার পরও গ্রেফতার না করায়   বুধবার সাহাজানপুরের অাইনের ওই ছাত্রী জানিয়েছিলেন চিন্ময়ানন্দকে গ্রেফতার  করা না হলে  সে গায়ে অাগুন দেবে। এর পরই শুক্রবার গ্রেফতার করা হয় চিন্ময়ানন্দকে। ছাত্রীর অভিযোগ কলেজে পড়ার পাশাপাশি লাইব্রেরিতে ৫০০০ টাকার চাকরি সুযোগ করে দেয় চিন্ময়ানন্দ। এর পর একদিন হোস্টেলে তাঁর স্নানের দৃশ্যের ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করে চিন্ময়ানন্দ। তার পর এই শারীরিক শোষণ চলতেই থাকে বলে অভিযোগ ছাত্রীটির।   মিডিয়ার সামনে এসে  ওই ছাত্রী অভিযোগ করেন বিজেপির প্রাক্তন মন্ত্রী চিন্ময়ানন্দ তাঁকে ধর্ষণ ও ও ১ বছর ধরে শারীরিকভাবে শোষণও করেছে।

২৪ অগস্ট ফেসবুকে তাঁর কলেজের ছাত্রীদের যৌন শোষণ করা হচ্ছে বলে ভিডিও প্রকাশ করেন ওই ছাত্রী। নাম না করলেও বিজেপি সাংসদের বিরুদ্ধেই তাঁর অভিযোগ ছিল। এর পর থেকেই ২৩ বছরের ওই তরুণী নিখোঁজ হন। প্রথমে পুলিস অভিযোগ না নিলেও পরে চাপে পরে ২৭ অগস্ট ছাত্রীটির বাবার দায়ের করা fir নেয় পুলিস।  ছাত্রীটির নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। যেদিন তাকে সুপ্রিম কোর্টে পেশ করার কথা তার ঠিক অাগে, ৬ দিন নিখোঁজ থাকার পর, তাঁর খোঁজ পায় সাহাজানপুর পুলিস।

 বিজেপির এই প্রাক্তন সাংসদ, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিন্ময়ানন্দের  বিরুদ্ধে অাশ্রমের এক মহিলাকে ধর্ষণেরর অভিযোগে ২০১২ সালে পুলিস চার্জশিট দেয়। তবে ধর্ষণে অভিযুক্ত ৩ বারের এই সাংসদকে এর অাগে কখনই গ্রেফতার করেনি পুলিস। এবার চাপ থাকায় অবশেষে গ্রেফতার হতে হয়েছে চিন্ময়ানন্দকে। তবে অভিযোগকারিণীকে গ্রেফতার করায় মামলার পরিণত কী হবে তা সবাই বুঝতে পারছে। কুলদীপ সেনগারের পর চিন্ময়ানন্দ।  একের পর এক বিজেপির নেতাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠছে। অথচ নাগরিক সমাজ এই নিয়ে প্রতিবাদে সরব হচ্ছে না।